প্রকল্পের পটভূমিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোট ৫টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৪ টি মৌজার ২৪.৬০ বর্গ কিঃমিঃ আয়তন নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা একটি ১ম শ্রেনীর পৌরসভা। ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া জনিত কারণে স্থানভেদে এ জেলাতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, খরা, পানি দূষণ, বন্যা, নদী ভাঙ্গন, ঘূর্ণিঝড়, শৈত্য প্রবাহ, আর্সেনিক দূষণ, কাল বৈশাখীর মত নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। অন্যদিকে এদেশের শহরগুলো অতি ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শহরগুলোতে বৃষ্টি ও পৌর এলাকার পয়ঃনিষ্কাশনের পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্যে দিয়ে অতিক্রমকারী খাল সমূহের মধ্যে নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল দ্বারা সৃষ্ট প্রবাহপথ দীর্ঘতম। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০.৫০ কি.মি.। নবাব খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫.০০ কিঃমিঃ এবং নয়াগোলা খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫.৫০ কিঃমিঃ। নবাব খালটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর ভবানীপুর মৌজার চাঁপাই-আমনুরা রাস্তা এবং নয়াগোলা খাল কল্যানপুর মৌজার নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয় এর পার্শ্ব হতে উৎপন্ন হয়ে মহাভাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর ও কালুপুর মৌজা দিয়ে রুহল বাঁধ নামক স্থানে অতিক্রম করে শিয়ালা মৌজায় মহাডাঙ্গা খালে পতিত হয়েছে। মহাডাঙ্গা খালটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান হয়ে মোট ৮০.০০ কিঃমিঃ পথ অতিক্রম করে করে মহানন্দা নদীতে পতিত হয়েছে।
১৯৮০ দশক থেকেই পৌর এলাকার নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল অবৈধ দখল এর কারণে প্রবাহপথ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিসিক ও আতাহার এলাকার অটো রাইস মিলের বর্জ্য পতন, খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ, পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি পতন দ্বারা খালগুলোর প্রবাহপথ ভরাট হতে শুরু করে। ইতোঃপূর্বে খনন/পুনঃখনন এর জন্য প্রস্তাবিত খাল ২টির প্রবাহপথ পুনরুদ্ধারকরণ বা রক্ষণাবেক্ষণ এর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে ২টি খালেরই প্রবাহপথ সঙ্কুচিত হয়ে স্থানে স্থানে নর্দমার মত আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ফলে পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় এবং নবাবগঞ্জ বিসিক এলাকা আতাহার অঞ্চলে চাঁপাইনবাগঞ্জ-আমনুরা রাস্তাটিতে বর্ষার পানির সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সাথে নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা সমূহের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা, কল্যানপুর, ফকল্যান্ড মোড়, বিজিবি এলাকা, পুলিশ লাইন, বিসিক এলাকা, আতাহার, মহাডাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর, গণকা, শিয়ালা কলোনীর একাংশের ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, সরকারী-বেসরকারী অফিস, স্কুল- কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট সহ নিকটবর্তী এলাকা পানিতে ডুবে থাকে।
জলাবদ্ধতার কারণে উক্ত এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানিতে ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ বংশ বিস্তারের কারণে এলাকার জনসাধারণ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও খালের নাব্যতা না থাকায় খালের প্রবাহ পথদ্বয়ের পানি ধারণক্ষমতা কম বিধায় অত্র এলাকার কৃষি জমি বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হয়। অপর দিকে অত্র অঞ্চল বরেন্দ্র ভূমি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে প্রবল খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এ অঞ্চলের স্বাভাবিক গড় উচ্চতা বেশি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে খাল, বিল, নদী, নালা, পুকুর, জলাশয়ে পানি না থাকায় অধিক খরার সৃষ্টি হয়। খরায় পানির অভাবে মাঠের ফসলাদির উৎপাদন কম হয়। উপরন্তু ভূপৃষ্ঠ পানির উৎস না থাকায় অত্র। এলাকায় কৃষিকাজ এর জন্য এলাকাবাসী মূলত অধিক মূল্যের ভূগর্ভস্থ পানি এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমবায়ী সেচ প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মানুষের আর্থিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত পরিবেশের আশ্রয় স্থলসহ জলবায়ু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখিত জলাবদ্ধতা ও খরা রোধ করার লক্ষ্যে নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল পুনঃখনন কাজ এবং বিদিরপুর কালভার্ট হতে মহানন্দা রেল ব্রীজ পর্যন্ত রেলওয়ে বরো পিটের মাধ্যমে নয়াগোলা খাল ও নবাব খালের সংযোগ স্থাপন এর কাজ বাস্তবায়ন করা একান্ত প্রয়োজন।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস